
পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণ, জন্মদিন উদ্যাপন কিংবা সন্তানের স্কুলের প্রথম দিনের ছবি—বিশেষ মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এখন অনেকের অভ্যাস। এসব পোস্টকে সাধারণ ও নিরীহ মনে হলেও এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচয়, অবস্থান ও দৈনন্দিন জীবনযাপন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ পেতে পারে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্র নানা ধরনের অপরাধের সুযোগ তৈরি করছে।
ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এখন ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। অনেকেই বুঝতে পারেন না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ছবি ও তথ্যের মাধ্যমে অজান্তেই ব্যক্তিগত তথ্য অপরাধীদের নাগালে পৌঁছে যাচ্ছে। সাইবার অপরাধীরা পরিচিত ব্যক্তির ছবি, নাম ও অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করছে। পরে ওই পরিচয়ে বন্ধু, স্বজন বা পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞরা ব্যক্তিগত তথ্যনির্ভর পোস্ট প্রকাশে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ইমেইল, ফোন নম্বর, বাড়ি বা কর্মস্থলের ঠিকানা, লাইভ লোকেশন এবং তাৎক্ষণিক চেক-ইন প্রকাশ না করাই ভালো। একইভাবে ভ্রমণের পরিকল্পনা, ছুটির দিনের সফরসূচি, হোটেল বুকিংয়ের তথ্য, বোর্ডিং পাস, টিকিট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্য পরিচয়পত্রের ছবি প্রকাশ থেকেও বিরত থাকতে হবে। আর্থিক তথ্য, লেনদেনের স্ক্রিনশট, সন্তানের স্কুল ও যাতায়াতের পথ কিংবা ছবির পেছনে থাকা স্পর্শকাতর তথ্যও অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শিশু-কিশোরদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। স্কুলের ইউনিফর্ম পরা ছবি থেকে সহজেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ও অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব। বর্তমানে সাধারণ তথ্য মনে হলেও এসব ছবি ও তথ্য ভবিষ্যতে শিশুর স্থায়ী ডিজিটাল পরিচয়ের অংশ হয়ে থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো কিছু পোস্ট করার আগে ভেবে দেখা উচিত—ছবিটি বা তথ্যটি প্রকাশের মাধ্যমে নিজের অবস্থান কিংবা সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ পাচ্ছে কি না। সামান্য সচেতনতাই সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে সহায়তা করতে পারে।
ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডেটা সুরক্ষা আইন ও নীতিমালায় তথ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্মতি ছাড়া অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন করা কিংবা ছদ্মবেশ ধারণের মতো কাজের জন্য আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখিও হতে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের আগে নিজেকে প্রশ্ন করা জরুরি—এটি অনলাইনে শেয়ার করার আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কি না। প্রয়োজন না থাকলে তা প্রকাশ না করাই নিরাপদ।